বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর যার হাতে আমার প্রান। আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আশ্রয় চাচ্ছি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে সকল প্রকার গোমরাহী থেকে। শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর প্রতি, আরো শান্তি বর্ষিত হোক সকল আম্বিয়া (আঃ) গণের প্রতি, রাসুল (সঃ) এর সকল সাহাবা (রাঃ) দের প্রতি, ও সকল শহীদ, সিদ্দিক, মুত্তাকী, মুমিন ও মুসলমানদের প্রতি।
আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ। একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমরা বুঝতে পেরেছি বিজ্ঞান আমাদের সব কিছুকে ঘিরে আছে। কিন্তু আমরা কি ভেবে দেখেছি এই বিজ্ঞান আসলে কি? একটা উদাহরণ দিয়ে শুরু করা যাক। ধরুন, নিউটনের মহাকর্ষ সুত্রের কথা। ‘মহাবিশ্বের সকল বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বস্তুদ্বয়ের ভরের গুনফলের সমানুপাতিক, তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক ও কেন্দ্র সংযোগকারী সরলরেখা বরাবর কাজ করে’। যদি কোন বিজ্ঞানের ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করা হয় এটা নিউটন কোথায় পেলেন?
তখন সে বলবে, এটা উনি পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে সত্য বলে প্রমানিত করেছেন। কিন্তু একটু ভেবে যদি প্রশ্ন করা হয়, এই পরীক্ষায় কেন এমন একটি উত্ত্র এল? অর্থাৎ, মহাবিশ্বের দুটি বস্তু কেন একে অপরকে আকর্ষণ করবে? কেনই বা এই আকর্ষণ কেন্দ্র সংযোগকারী সরলরেখা বরাবর কাজ করবে কিংবা কেনই বা তা ভরের সমানুপাতিক কিংবা ব্যস্তানুপাতিক হবে? তখন কি উত্তর দেবে সে? হয়ত বলবে জানি না কিংবা বলবে এটা এমনই। তাহলে এখানে বেশ বড় একটা তথ্য অনুপস্থিত কিংবা বলা যেতে পারে আমরা জানি না। এই যে সুত্রটি নিউটন আবিষ্কার করলেন তার উৎস কি? এই অনুপস্থিত তথ্যই হল আল্লাহর সুন্নাহ তথা আল্লাহর সৃষ্টির নিয়ম। মহান আল্লাহ সুবাহানাল্লাহু তা’আলা এই সৃষ্টি জগতের সব কিছু সৃষ্টি করে তার নিয়ম সেট করে দিয়েছেন। সেই নিয়মেই এই পৃথিবী, মহাবিশ্ব ও এর মধ্যকার সব কিছু চলমান।
তখন সে বলবে, এটা উনি পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে সত্য বলে প্রমানিত করেছেন। কিন্তু একটু ভেবে যদি প্রশ্ন করা হয়, এই পরীক্ষায় কেন এমন একটি উত্ত্র এল? অর্থাৎ, মহাবিশ্বের দুটি বস্তু কেন একে অপরকে আকর্ষণ করবে? কেনই বা এই আকর্ষণ কেন্দ্র সংযোগকারী সরলরেখা বরাবর কাজ করবে কিংবা কেনই বা তা ভরের সমানুপাতিক কিংবা ব্যস্তানুপাতিক হবে? তখন কি উত্তর দেবে সে? হয়ত বলবে জানি না কিংবা বলবে এটা এমনই। তাহলে এখানে বেশ বড় একটা তথ্য অনুপস্থিত কিংবা বলা যেতে পারে আমরা জানি না। এই যে সুত্রটি নিউটন আবিষ্কার করলেন তার উৎস কি? এই অনুপস্থিত তথ্যই হল আল্লাহর সুন্নাহ তথা আল্লাহর সৃষ্টির নিয়ম। মহান আল্লাহ সুবাহানাল্লাহু তা’আলা এই সৃষ্টি জগতের সব কিছু সৃষ্টি করে তার নিয়ম সেট করে দিয়েছেন। সেই নিয়মেই এই পৃথিবী, মহাবিশ্ব ও এর মধ্যকার সব কিছু চলমান।
ভাবতে অবাক লাগে, এই যে এত বড় বড় বিজ্ঞানের বই, ইঞ্জিনিয়ারিং এর সূত্রের কচকচানি এর ব্যসিকে গেলে একটিই প্রশ্ন থেকে যায় যা বিজ্ঞান জানে না, তা হল এইসব সুত্রের উৎস। আর আমরা জানি যে এখন এমন অনেক অগুনিত সুত্র আছে যা আমরা জানি না কিংবা যার প্রসেসিং চলছে। এই সব সুত্রই হল মহান আল্লাহর সৃষ্টি। মহাবিশ্বের জন্য বেধে দেওয়া ওনার সুত্রগুলো আবিষ্কার করে আমরা মনে করি যে, আল্লাহ কোথায়? এই সুত্রই আমাদের চালিত করে। এইসব বিজ্ঞনী ও অধুনা কিছু নাস্তিক আছেন, তাদেরকে আমি প্রশ্ন করতে চাই এইসব সুত্রের উৎস কি? আমরা সামান্য কিছু বিজ্ঞান জেনে লাফালাফি করি- ‘কিছুদিনের মাঝেই সৃষ্টির রহস্য উদঘাতন করে ফেলব’। আরে ভাই এতই যদি পারতেন তাহলে বলতে পারেন না কেন নিউটনের মহাকর্ষ সুত্রের মত সাধারণ একটা সুত্রের উৎস?
বিজ্ঞানকে যারা প্রভু বলে পুজা করে তাদেরকে মহান আল্লাহর দেয়া একটি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, যদি পারেন তাহলে করেন দেখিঃ
“হে মানুষ, একটি উপমা পেশ করা হল, মনোযোগ দিয়ে তা শোন, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না। যদিও তারা এ উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়। আর যদি মাছি তাদের কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নেয়, তারা তার কাছ থেকে তাও উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষণকারী ও যার কাছে অন্বেষণ করা হয় উভয়ই দুর্বল”। (সুরা হাজ্জঃ ৭৩)
হয়ত, উপরোক্ত আয়াতটি আপনাদের কাছে পরিষ্কার হয় নি। এখানে আল্লাহ বলছেন, আপনাদের বিজ্ঞান কি পারবে একটি মাছি সৃষ্টি করতে? হয়ত বলবেন, প্রান সৃষ্টি করা এত সহজ নয়, আর আপনাদের বিজ্ঞান এতটুকু অগ্রসর হতে পারে নি। যাই হোক এটা না হয় বাদ দিলাম। আপনি কি পারবেন আপনার খাবার থেকে মাছি যদি কিছু ছিনিয়ে নেয় তাহলে তা ফিরিয়ে আনতে? যদিও মাছি খুব দুর্বল একটা প্রানী। যদি না পারেন তাহলে আল্লাহর উক্তি অনুযায়ী স্বীকার করুন, যে আপনিও দুর্বল। অন্বেষণকারী ও যার কাছে অন্বেষণ করা হয় উভয়ই দুর্বল।
এবার আসা যাক বৃষ্টির কথায়। মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
“তোমরা যে পানি পান কর সে ব্যাপারে ভেবে দেখেছ কি? বৃষ্টিভরা মেঘ থেকে তোমরা কি বর্ষণ কর না আমি বর্ষণকারী? ইচ্ছা করলে আমি তা লবনাক্ত করে দিতে পারি; তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও না?” (সুরা ওয়াকিয়াঃ ৬৮-৭০)
আমার বিজ্ঞানে বিশ্বাসী বন্ধুরা হয়ত বলবেনঃ এটা পানিচক্র। আল্লাহ বর্ষণ করেন না। সমুদ্র থেকে বাষ্প হয়, বাষ্প যেয়ে উপরে ঠান্ডা হয়, পরে ভারী হলে কিংবা পাহাড়ে বাধাপ্রাপ্ত হলে বৃষ্টি নামে। কিন্তু ভাইয়েরা আমার আপনারা কি জানেন সুর্যের তাপে পানির সাথে মিশ্রিত লবনও কেন বাষ্প হয় না? বলবেন এটা মিশ্রণের নিয়ম। লবন আর পানি মিশ্রিত হয় ঠিকই কিন্তু তাতে কোন বিক্রিয়া না হওয়ার কারণে লবন থেকে যায় আর শুধু পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। কিন্তু ধরুন হঠাৎ করে লবন পানির সাথে বিক্রিয়া শুরু করে দিল, তাহলে আপনি কি করবেন? আপনি হয়ত বলবেন এটা কখনো হতে পারে না। কারণ লবনের রাসায়নিক বৈশিষ্টটাই এমন। কিন্তু ভাই এই রাসায়নিক বৈশিষ্ট কার তৈরি বলতে পারেন? যিনি এই বৈশিষ্ট তৈরি করেছেন উনি যদি কিছুটা পরিবর্তন করে দেন তো কি করবেন?
মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ
“বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের ভেতরে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে বহমান পানি এনে দিবে’?” (সুরা মুলকঃ ৩০)
আচ্ছা এইবার বলুন, যদি কোন কারনে আমাদের পুকুর, নদী, কিংবা সমুদ্রের পানি মাটির নীচে চলে যায় তাহলে কি করবেন? কিংবা মাটির নীচের পানির স্তর আরো নীচে চলে যায় তাহলে? অথবা যদি মাটির নীচের সব পানি উপরে উঠে আসে? যেমনটি হয়েছিন নুহ (আঃ) এর সময়। আল্লাহ যদি চান তাহলে মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা সামান্য কমিয়ে কিংবা বাড়িয়ে দিলেই পুরো পৃথীবি পানির নীচে ডুবে যাবে কিংবা মরুভূমিতে পরিণত হবে। তখন আপনার বিজ্ঞান তাকে বাচাতে পারবে না। কারণ বিজ্ঞান নিজেই আল্লাহর আজ্ঞাধীন। আর তিনিই বিজ্ঞানের স্রষ্টা, বিজ্ঞান হল তাঁর সুন্নাহ।
এইবার একটু ভেবে দেখুন আমাদের নিজেদের সৃষ্টির কথা। আপনারা বলবেন শুক্রকীট আর ডিম্বানু নিষিক্ত হয়েই আমরা সৃষ্টি হয়েছি। কিন্তু মহান আল্লাহ বলেনঃ
“তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমরা যে বীর্যপাত কর সে সম্পর্কে? তাকি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমিই তার স্রষ্টা?” (সুরা ওয়াকিয়াঃ ৫৮-৫৯)
অর্থাৎ, আপনার মেডীক্যাল সাইন্স কি পারবে শুক্রাণু তৈরি করতে? পারবে না। মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ
“হে মানুষ! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দেহে থাক তবে নিশ্চয়ই জেনে রেখো, আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি, তারপর শুক্র থেকে, তারপর ‘আলাকা’ থেকে, তারপর পুর্নাকৃতিবিশিষ্ট অথবা অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট গোশত থেকে। তোমাদের নিকট বিষয়টি সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করার নিমিত্তে। আর আমি যা ইচ্ছা করি তা একটি নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত মাতৃগর্ভে অবস্থিত রাখি। অতঃপর আমি তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করি, পরে যাতে তোমরা যৌবনে উপনীত হও। তোমাদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যু দেয়া হয় এ বয়েসেই, আবার কাউকে কাউকে ফিরিয়ে নেয়া হয় হীনতম বয়সে, যাতে জ্ঞান লাভের পরও কিছু না জানে। তুমি যমীনকে দেখতে পাও শুষ্ক অবস্থায়, অতঃপর অতঃপর যখনই আমি তাতে পানি বর্ষন করি তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং উদগত করি সকল প্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ”। (সুরা হাজ্জঃ ৫)
মহান আল্লাহ পৃথিবীর প্রথম মানব আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করেছিলেন মাটি থেকে। তারপর তিনি আদম (আঃ) এর মাঝে বংশ পরম্পরার সুত্র তথা জেনেটিক্স কে ব্যবহার করলেন ও তারপর শুক্র থেকে মানুষ বংশবৃদ্ধি করতে থাকলো। শুক্রবিন্দু যখন ডীম্বানুর সাথে মিলিত হয় তখন তা ‘অলকায়’ রূপ নেয়, অতঃপর তা জাইগোট তথা মাংশপিন্ডে পরিনত হয়। আচ্ছা বলুন তো শুক্রাণু ডিম্বানু মিলিত হলে জাইগোট কেন হয়? অতঃপর মহান আল্লাহ নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত মাতৃগর্ভে শিশুকে পরিনত করেন। আচ্ছা বলতে পারবেন কি শুধু নয় মাসই বা কেন একটি শিশু মাতৃগর্ভে থাকবে? দুই বছর কেন নয়? কিংবা গরুর বাচ্চা যদি জন্মের পরেই হাটা শুরু করতে পারে তাহলে মানুষের বাচ্চা কেন পারে না? যারা এর পরেও বিজ্ঞানের অন্ধভক্তি না জেনেই যে, বিজ্ঞানও আল্লাহর তৈরি, তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেনঃ
“তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ‘শুক্রকীট’ থেকে, অথচ সে প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী”। (সুরা নাহলঃ ৪)
এবার একটু বোটানির দিকে আসা যাক। মহান আল্লাহ বলেনঃ
“আর যমীনে আছে পরস্পর পাশাপাশি ভুখন্ড, আঙ্গুর-বাগান, শস্যক্ষেত, খেজুর গাছ, যেগুলোর মধ্যে কিছু একই মূল থেকে উদগত আর কিছু ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে উদগত, যেগুলোকে একই পানি দেয়া হয়, আর আমি স্বাদের ক্ষেত্রে একটিকে অপরটির তুলনায় উৎকৃষ্ট করেছি, এতে নিদর্শন রয়েছে ঐ লোকদের জন্য যারা বুঝে”। (সুরা রাদঃ ৪)
আপনারা তো বোটানির বহু দ্বীপদ নামকরণ মুখস্ত করে বসে আছে কিন্তু বলতে পারবেন কি, আম গাছ আর তিতা করল্লার গাছে তো একই পানি, একই সার দেয়া হয়; তাহলে এরা স্বাদে ভিন্ন কেন? হয়ত বলবেন, এটা জিনের পার্থক্যের কারণে হয়। তাহলে ওই একই প্রশ্ন এসে পড়ে জীনের পার্থক্য কেন হয়, আর হলেও তা তিতা না হয়ে মিষ্টি হল না কেন?
মহান আল্লাহ বলেনঃ
“তোমরা আমাকে বল, তোমরা যমীনে যা বপন কর সে ব্যাপারে। তোমরা তা অঙ্কুরিত কর, না আমি করি? আমি চাইলে তা খড়-কুটায় পরিণত করতে পারি, তখন তোমরা পরিতাপ করতে থাকবে”। (সুরা ওয়াকিয়াঃ ৬৩-৬৫)
আবারো ওই একই প্রশ্ন আপনাদের কাছে, আপনি মনে করেন যে গাছের বীজ লাগাই তাই গাছ হয়। কিন্তু বীজ লাগালে গাছ কেন হয়? এটা ভেবে দেখেছেন কি? আর যার সূত্র মতে বীজ থেকে চারা গজায়, তিনি যদি সুত্রে একটু ওলট-পালট করে দেন তাহলে কি আর চারা গজাবে?
সমুদ্রে লোনা পানি আর মিঠা পানি কখনো এক হয় না, যদিও তারা বহমান থাকে। খুব সুন্দর একটা ডকুমেন্টারি তে দেখেছিলাম। মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেনঃ
“তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন, যারা পরস্পর মিলিত হয়। উভয়ের মধ্যে রয়েছে এক আড়াল যা তারা অতিক্রম করে না”। (সুরা রাহমানঃ ১৯-২০)
আপনি হয়ত ভাবছেন, আরে লোনা পানি আর মিঠা পানির ঘনত্বের কারণে তা এও হয় না। কিন্তু ভাইয়া এই ঘনত্ব ও অন্যান্য প্রোপার্টিজ কার নির্ধারিত? যে কারণে ১৪০০ বছরেরও আগে তিনি বলে দিয়েছেন এই কথা। আর এমন একজন রাসুল (সঃ) এর কাছে এই বানীটি নাযিল হয়েছিল, যিনি বড় হয়েছিলেন মরুভুমিতে। হে বিজ্ঞানে বিশ্বাসীগণ ও নাস্তিকেরা, সত্য মনে একবার নিজেকে জিজ্ঞেস করে দেখুন আর মরুভুমির একজন লোকের ১৪০০ বছর আগে এই বৈজ্ঞানিক তথ্যটি জানার প্রোবাবিলিটি কেলকুলেট করুন। ইনশাল্লাহ উত্তর পেয়ে যাবেন। আপনাদের বিজ্ঞানই আপনাকে বলে দিবে তার নিজের সৃষ্টিকর্তা কে!
সবশেষে শুধু এটুকু বলব, নাস্তিক ও বিজ্ঞানে বিশ্বাসী ভাইদের প্রতি আমার কোন বিদ্বেষ নেই। আর আপনারা খুব কাছেন। অর্থাৎ একটু চিন্তা করলেই সত্যটা ধরে ফেলতে পারবেন। আপনারা বিজ্ঞানে বিশ্বাস করেন কিন্তু বিজ্ঞানকে যিনি সৃষ্টি করলেন তাকে করেন না। একটু চেষ্টা করুন তাঁকে চিনে ফেলতে পারবেন ইনশাল্লাহ। আর দয়া করে আরজ আলী মাতব্বর কিংবা এই টাইপের লোকদের বই পড়া ছাড়ুন। পৃথিবীর সবচেয়ে সঠিক গ্রন্থটা একবার অর্থসহ পড়ূন। আর যদি এমনি পড়তে ইচ্ছা না করে তাহলে ভুল ধরতে পারার কিংবা এমন একটি গ্রন্থ রচনা করার চ্যালেঞ্জটা কিন্তু এখনো বলবৎ আছে, চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আর না বুঝলে তাফসীর থেকে ব্যাক্ষা খুজে নিন কিংবা যে জানে তাকে জিজ্ঞাসা করুন।
“তিনিই সে সত্তা, যিনি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন, যাতে রয়েছে তোমাদের জন্য পানীয় এবং তা থেকে হয় উদ্ভিদ, যাতে তোমরা জন্তু চরাও। তার মাধ্যমে তিনি তোমাদের জন্য উতপন্ন করেন ফসল, যাইতুন, খেজুর গাছ, আঙ্গুর এবং সকল ফল-ফলাদি। নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে”। (সুরা নাহলঃ ১০-১১)
“আর তিনিই যমিনকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে সুদৃঢ় পর্বতমালা ও নদ-নদী স্থাপন করেছেন। আর প্রত্যেক প্রকারের ফল তিনি জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাত দ্বারা দিনকে ঢেকে দেন। নিশ্চয়ই যে কওম চিন্তাভাবনা করে তাদের জন্য এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে”। (সুরা রাদঃ ৩)
সবশেষে আপনাদের সকলের জন্য রইল দুয়া। আল্লাহ আমাদের সকলকে হিদায়ত দিন ও তার করুণার শুকরিয়া আদায়ের তৌফিক দিন।


23:45
নাজমুল ইসলাম