Wednesday, 8 June 2011

সভ্যতার পরিচায়কঃ বিয়ে


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর যার হাতে আমার প্রান। আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আশ্রয় চাচ্ছি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে সকল প্রকার গোমরাহী থেকে। শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর প্রতি, আরো শান্তি বর্ষিত হোক সকল আম্বিয়াগণের প্রতি, রাসুল (সঃ) এর সকল সাহাবা (রাঃ) দের প্রতি, ও সকল শহীদ, সিদ্দিক, মুত্তাকী, মুমিন ও মুসলমানদের প্রতি।

বর্তমান যুগ হল প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দিতার যুগ। কিন্তু প্রশ্ন হল কিসের প্রতিযোগিতা? আমরা সবাই জানি কিন্তু হয়তো মানি না যে আমরা প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতায় হুমড়ি খেয়ে পরেছি। আরো চাই, আরো চাই- এটাই আমাদের জীবনের লক্ষ্য। আমরা যখন পড়াশুনা করি তখনও এটাই মাথায় থাকে যে, ভাল করে পড়াশুনা না করলে ভাল চাকুরী পাওয়া যাবে না, আর ভাল চাকুরী না পেলে ব্যাঙ্ক ক্রেডিট কার্ড দিবে না, আর ব্যাঙ্ক ব্যালান্স না থাকলে ভাল পাত্রী পাওয়া যাবে না, সোসাইটিতে মাথা উঁচু করে চলা যাবে না। তাই আমরা শিখার জন্য পড়ি না, বরং শোষার জন্য পড়ি।
পড়াশুনা করে মানুষ না হয়ে একটা অমানুষ হই। ঘুষ দিলে খাই, অনেক সময় না দিলে জোর করে খাই। কারন, আমার ছেলে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে, মেয়েকে ভাল টিউটর রেখে পড়াতে হয়, বড় জব দেখিয়ে বিয়ে করা সুন্দরী বউএর সৌন্দর্য বজায় রাখার খরচ অনেক। তাই আমার ছেলে যখন বড় হয়, তখন তাকেও বলি, বাবা ভাল করে পড়, পড়ে পড়ে সব কিছু পেড়ে ফেল। মনে করি ছেলে হয়ত আমার চেয়ে ভাল কোন জব করতে পারবে আর আমার যেসব সমস্যা ছিল সেগুলো তার হবে না। আর ছেলে যদি বিশ বাইশ বছরে বিয়ের কথা বলে তখন তো মাথায় হাত। তাকে বুঝাতে থাকি, বাবা এখন বিয়ে করলে কে তোকে ভাল মেয়ে দিবে? আগে ব্যাঙ্ক ব্যালান্স, তারপর বিয়ে। মেয়ের বাবা হলে বলি, আগে ভালকরে পড়াশুনা করে নাও তারপর। শিক্ষিত মেয়ে ছাড়া আজকাল কেউ বিয়ে করে না। আর যদি কোন আর্বাচীন ছেলে যার ব্যাঙ্ক ব্যালান্স নাই তার সাথে মেয়ের বিয়ে দেবার তো প্রশ্নই উঠে না।

পত্রিকায় প্রায়ই খবর আসে ইভ টিজিং এর। নারীবাদীরা চিল্লাইয়া গলা ফাটাইয়া ফেলায় এদের শাস্তির জন্য। কিন্তু কেউ কখনো ভাবে না বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে কিংবা ছেলেদের বিয়ে না দিয়ে রাস্তায় ছেড়ে দিলে এর থেকে ভাল কিছু আশা করা অন্যায়। একটা ছেলের বয়স পচিশ পেড়িয়ে যায় কিন্তু মা বাবা বিয়ের নামই নেন না। কারণ ছেলে জব করে কিন্তু সেলারি বেশি না। আর ওদিকে মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পাশ দিলেও বাবা মা বলেন, এই তো মাস্টার্সটা না করলে কি ভাল ছেলে পাওয়া যাবে?
যেখানে একটা ছেলে ১৮ বছরেই যথেষ্ঠ বিয়ের উপযুক্ত হয়ে যায় সেখানে তাকে ত্রিশের আগ পর্যন্ত বিয়ে থেকে বিরত রাখা হয়। মেয়েদের বেলায়ও ঠিক তেমনি। তো ছেলে মেয়েদের কি দোষ। তারা বেরিয়ে পড়ে শিকারে। পশু শিকার নয়, বিপরীত লিঙ্গের ভালবাসা শিকার। একাকিত্ব থেকে বাচতে এর থেকে ভাল কোন পন্থা আর কেউ খুঁজে পায় না। আর এর সাথে আছে মোবাইল ফোন গুলোর রাতভর ঘন্টা প্যাকেজ, এসএমএস প্যাকেজ আরো কত কি। আরো সুরসুরি দিতে আছে আমাদের বিশিষ্ট (!!!) কবি সাহিত্যিকগণ, যাদের ভাষায় বিয়ের আগে প্রেম না করলে জীবনটাই বৃথা। তাছাড়া আছে ওয়েস্টার্ন সভ্যতার (অসভ্যতার) নমুনা মিডিয়া চ্যানেলগুলো। “শয়তানের মাউথপিস” ছাড়া এদের আর কোন নামে সঙ্গায়িত করা যায় বলে আমার জানা নেই। এই শয়তানের মাউথপিসগুলো বলে, ‘বিয়ে মানেই ঝামেলা, বিয়ে মানেই দায়বদ্ধতা। লিভ টুগেদার করো, ঝামেলা নাই, ঝাড়া হাত পা’। আর আমাদের তরুনদেরই বা কি দোষ। ওরা নিজের চোখের সামনে দেখে ওদের নিজেদের পরিবারের অশান্তি। আর শয়তান তো আছেই প্ররোচনায় সিদ্ধহস্ত।
প্রেম-ভালবাসার এই শিকার-শিকার খেলায় কেউ জয়লাভ করে, কেউবা আহত হয়ে ‘দেবদাস’ বনে যায়; কেউবা আবার আহত বাঘিনীর মত কিছু একটা ক্ষতি করতে চেষ্টা করে। যে কারনে কেউ প্রেমিকার মুখে এসিড ছুড়ে মারে, কিংবা কেউ প্রেমিকের সন্তানের গলায় ছুরি মারে। এসব কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো আমাদের কর্মের ও আধুনিক (!!) চিন্তা চেতনার ফল।
টি এস সি চত্বর, সংসদ ভবন, জিয়া উদ্যান, ধানমন্ডি লেক, রমনা কিংবা বড় রেস্টুরেন্টের চিপায় বসে থাকা জুটিদের দেখে আমার ঘৃনা হয় না, বরং কেমন যেন একটা অপরাধবোধ জন্ম নেয়। মনে হয়, ইসলামকে ঘরে ঘরে পৌছে না দিতে পারার কারনেই আজ এই অবস্থা। আর একজন মুসলিম হিসেবে আমিই পারি নি তা করতে। 

যাই হোক, আমাদের রাসুল (সঃ) ও তাঁর সাহাবাদের সময়ে বিয়ে ছিল অনেক সহজ। আর বিয়ের জন্য তেমন অর্থকড়ি না থাকলেও চলত। ছেলেকে শুধু ‘মাহর’ (দেনমহর) আদায় করতে হত ও ওলিমায় সকলকে দাওয়াত করতে হত; তাও ওটা অনেক অনাড়ম্বর ভাবে করা হত।
‘মাহর’ সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই তেমন কোন ধারনা নেই। মেয়েপক্ষ হলে চায় যে মাহর অনেক বেশি ধার্য করা হোক, আর ছেলে হলে চায় যে যত কম করা যায়। আর আজকালকার যুগে কম হলেও তা অনেক। কিন্তু ছেলেরা মনে করে, বউ মাফ করে দিবে। তাই এটা নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই তাদের। কিন্তু সত্যিকার অর্থে কি বউ মাফ করে দেয় নাকি বাধ্য হয়ে মেনে নেয়? যার সাথে সংসার করতে হবে তার কথা মেনে না নিয়ে কে অশান্তি সৃষ্টি করবে? কিন্তু ইসলাম বলে, এটা একটি মেয়ের হক এবং এটা স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালবাসার নিদর্শন। এবং ‘মাহর’ আদায় ওয়াজিব।
ইসলামে ‘মাহর’ এর কোন নির্ধারিত পরিমান নেই। এটা ছেলের আর্থিক অবস্থা ও সময়ের উপর নির্ভর করে। তারপরও এটা অনেক বেশি কিংবা খুব কম না হওয়া বাঞ্ছনীয়। মেয়ের পরিবারের উচিত ছেলের ধার্মিকতা, চরিত্র ও কমিটমেন্টের দিকে বেশি নজর দেয়া, টাকার দিকে নয়। 

এখন প্রশ্ন আসে, ‘মাহর’ এর সর্বনিন্ম পরিমান কত হতে পারে? এ ব্যাপারে একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিবঃ
The minimum amount of mahr has been explained in the report in al-Saheeh (no. 1425) narrated from Sahl ibn Sa’d al-Saa’idi, who said: “A woman came to the Messenger of Allah (peace and blessings of Allah be upon him) and said, ‘O Messenger of Allah, I have come to give myself (in marriage) to you.’ The Messenger of Allah (peace and blessings of Allah be upon him) looked at her and looked her up and down, then the Messenger of Allah (peace and blessings of Allah be upon him) lowered his head and paused. When the woman saw that he had not made a decision about her, she sat down. A man from among the Sahaabah said, ‘O Messenger of Allah, if you are not interested in her, then marry her to me.’ He said, ‘Do you have anything?’ He said, ‘No, by Allah, O Messenger of Allah.’ He said, ‘Go to your people and see if you can find anything.’ So the man went, then he came back and said, ‘No, by Allah, I could not find anything.’ The Messenger of Allah (peace and blessings of Allah be upon him) said, ‘Look and see (if you can find anything), even if it is only an iron ring which you can give.’ So he went, then came back,and said, ‘No, by Allah, O Messenger of Allah, not even an iron ring. But (I have) this izaar (garment)of mine, she can have half of it.’ The Messenger of Allah (peace and blessings of Allah be upon him)said: ‘What can she do with your izaar? If you are wearing it she will have nothing of it.’ The man sat down, then after a long time had passed, he got up (to leave). The Messenger of Allah (peace and blessings of Allah be upon him) saw him leaving and called him. When he came, he said, ‘What do you know of the Qur’aan?’ He said, ‘Soorah Such-and-such and Soorah Such-and-such.’ He said, ‘Do you know them by heart?’ He said, ‘Yes.’ He said, ‘Then go, you are married to her by what you know of the Qur’aan.’

হাদিসটি থেকে এটা স্পষ্ট যে, মাহর অনেক কম ও বেশি হতে পারে। তবে এটা পাত্র-পাত্রী দুজনের অনুমতি সাপেক্ষে হতে হবে।
With regard to the question about the mahr of the Mothers of the Believers: Muslim narrated in his Saheeh (no. 1426) that Abu Salamah ibn ‘Abd al-Rahmaan said: “I asked ‘Aa’ishah the wife of the Prophet (peace and blessings of Allah be upon him) what the mahr given by the Prophet (peace and blessings of Allah be upon him) was. She said: ‘The mahr that he gave to his wives was twelve ooqiyah and a nashsh.’ He said, Do you know what a nashsh is? He said, she said it ishalf of an ooqiyah. That was five hundred dirhams. This was the mahr given by the Prophet (peace and blessings of Allah be upon him) to his wives.”The scholar Ibn Khaldoon said:“The consensus of the scholars from the beginning of Islam and the time of the Sahaabah and the Taabi’een has been that the shar’i dirham is that of which ten coins weigh seven mithqaals of gold. The ooqiyah is forty dirhams of this type, and on this basis it is seven-tenths of a dinar… All of these amounts are agreed upon by scholarly consensus (ijmaa’).”(Muqaddimah Ibn Khaldoon, p. 263)
 এর উপর ভিত্তি করে এক দিরহামের ওজন ২.৯৭৫ গ্রাম।
অতএব, ৫০০ x ২.৯৭৫ = ১৪৮৭.৫ গ্রাম রূপা।
 ১৪৮৭.৫ গ্রাম অকারুকার্যিত রূপার মুল্য আনুমানিক ৫০০ ডলার।
$৫০০ = ৫০০ x ৳৭৫ = ৳৩৭,৫০০/=
আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আসুন আমরা বিয়েকে উতসাহিত করি- হালাল কে গ্রহণ করি ও হারামকে বর্জন করি। 



মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
“Marry those among you who are single, or the virtuous ones among your slaves, male or female: if they are in poverty, Allah will give them means out of His grace: for Allah encompasseth all, and He knoweth all things.” [24:32]




0 comments:

Post a Comment

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More

 
Design by Free WordPress Themes | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | coupon codes