Monday, 6 June 2011

একটি স্বপ্ন

                 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর যার হাতে আমার প্রান। আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আশ্রয় চাচ্ছি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে সকল প্রকার গোমরাহী থেকে। শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর প্রতি, আরো শান্তি বর্ষিত হোক সকল আম্বিয়াগণের প্রতি, রাসুল (সঃ) এর সকল সাহাবা (রাঃ) দের প্রতি, ও সকল শহীদ, সিদ্দিক, মুত্তাকী, মুমিন ও মুসলমানদের প্রতি।
একটা মানুষ যখনি এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে তখন অর্থাৎ শিশুকাল থেকেই সে একটা চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। এটা এমন এক চক্র যা উপলব্ধি করার ক্ষমতাই হয়তো অনেকের নাই। যখন ছোট ছিলাম তখন বাবা মা বলতেন ভাল করে পড়াশুনা করতে, করে অনেক বড় হতে। আর সবচেয়ে বড় যে টার্গেট তা ছিল- পড়িক্ষায় ভাল করা। জীবনের উদ্দেশ্যটাই তখন মনে হত পরীক্ষায় প্রথম হওয়া। মনে হত যেন ওটাই চাওয়া পাওয়ার শেষ। 

 
আরেকটু যখন বড় হলাম তখন এডাম স্মিথ সাহেব বললেন, “নাহ। অভাব অসীম”। অর্থাৎ, তোমার চাওয়া, পাওয়া এখানেই শেষ নয়। তোমাকে অনেক কিছু পেতে হবে। একটা পূরণ হবে তো আরেকটা পেতে হবে। তারপর একসময় যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা পড়তে গেলাম, তখন আরেক বিখ্যাত ব্যক্তি বললেন, “আরে অভাব যদি ফুরিয়েও যায়, তাহলে প্রোডাক্ট চালানোর জন্য অভাব তৈরি করে ফেল। এ এমন কি কঠিন কাজ! কয়েকটা তথাকথিত তারকাদের দিয়ে তোমার নতুন পন্যের একটু ব্যবহার করিয়ে নাও। নতুবা আরো অনেক পদ্ধতি আছে”। যাই হোক, তখন বুঝতে পারলাম আসলে এই অভাব জিনিসটা স্মিথ সাহেবরাই তৈরি করেন এবং ভাব মেরে বলেন, অভাব অসীম। আর আমরা হুজুগে নাচি। ভাবি, আসলেই তো আমার ঐ জিনিসটা খুব দরকার, আর ওটা পেলে যে কি সুবিধা হত।
যাই হোক এবার আসল কথায় আসি। একটু ভেবে দেখুন আপনার জীবনের লক্ষ্য বলতে কিছু ছিল কিনা? হয়ত আপনি ভাবছেন ছিল। হ্যাঁ, আমিও বলব ছিল। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো সেগুলো এরকম কিছু কিনা? যখন আপনি ছোট ছিলেন- ধরুন ক্লাস ফোর/ফাইভ। তখন আপনার লক্ষ্য ছিল ক্লাসে ফার্স্ট হওয়া আর পাশাপাশি হয়ত বাবা মার কথা শুনে কিংবা কাউকে দেখে বড় ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার কিংবা আর্মি অফিসার ইত্যাদি হওয়া। যখন আরেকটু বড় হলেন, অর্থাৎ সেভেন, এইট কিংবা নাইন- টেন, তখন হয়ত বুঝতে পারলেন আপনার আসলেই খুব ভাল রেজাল্ট করতে হবে অথবা আপনার প্রচুর টাকা পয়সা দরকার নতুন লেপটপ কিংবা আপনার শখের কিছু কিনার জন্য। যখন কলেজে উঠলেন, তখন আপনি আপনার আসল প্রতিভার পরিচয় পেলেন, ভাবলেন যে, নাহ আমাকে দিয়ে ডাক্তারি হবে না, ইঞ্জিনিয়ারই হব। অথবা ভাবতে লাগলেন, আপনার প্রেমিকাকে বিয়ে করতেই হবে, যে করেই হোক, এর জন্য দরকার হলে আপনি গার্মেন্টসে কাজ করতে পারেন। যাই হোক, যখন আরেকটু বড় হলেন, তখন মনে হল, জীবনে টাকা পয়সা না থাকলে কিছুই হয় না। তারপর আপনি অনেক পরিশ্রম করতে লাগলেন, টাকা কামালেন, সুন্দরী বউ ঘরে আনলেন। কদিন পর আপনার ঘর আলো করে সন্তান এল। আপনি ভাবতে লাগলেন, এদের জন্য আপনাকে আরো পরিশ্রম করতে হবে, সন্তানদের ভাল জীবন যাত্রার জন্য আপনি আরো টাকার পিছনে ছুটতে লাগলেন। আপনার সন্তানকে শিক্ষা দিতে লাগলেন, যেন সে পরীক্ষায় প্রথম হয়ে বড় কিছু হতে পারে; ঠিক যেমনটি আপনার বাবা মা আপনাকে শিখিয়েছিলেন। মধ্যবয়সে পেনশনে কত টাকা পাবেন, তা হিসেব করেন মাঝে মধ্যেই। আর ভাবেন আরো কিছু হলে ভাল হত। হয়ত বৃদ্ধ বয়সটা আরামে কাটানো যেত।
এই আপনার বড় কিছু যা আপনি আপনার সন্তানদের মাঝেও দেখে যেতে চান। আসলে আপনি চান আপনার সন্তান আপনার মত কিংবা আপনার চেয়েও বেশি টাকা ইনকাম করুক। আর আরাম আয়েশে জীবনটা কাটিয়ে দিক।
ছোটবেলায় যখনই কোন রুপকথার গল্প শুনতাম, তখন একটা জিনিসে খুব অবাক হতাম। সব গল্পের শেষেই থাকত, “অবশেষে তারা সুখে শান্তিতে বাস করতে লাগল”। আমার মনে হত, হয়ত এই সুখে শান্তিতে বাস করাটাই হয়ত জীবনের শেষ অভীষ্ট। একটু ভেবে দেখুন, আপনি কি রুপকথার “সুখ শান্তির” পিছনে ছুটছেন না?
তাহলে আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যটা কি একটু ভিন্ন হওয়া উচিত নয়? আমরা যারা একটু ইসলাম জানি, তারা এটা জানি ও বিশ্বাস করি যে, পৃথিবীতে আমাদের জন্য যতটুকু রিযিক নির্ধারিত আছে তার থেকে একটুও বেশি কিংবা কম করা হবে না। অর্থাৎ আমরা চাইলেও আমাদের তাকদীরে যতটুকু লেখা আছে তার থেকে বেশি ইনকাম করতে পারবো না। তাহলে আমার প্রশ্ন হল, তাহলে কেন আমরা এই ব্যাপারটা নিয়ে এত মাথা ঘামাই? তবে হ্যাঁ, কেউ যদি মনে করে তাহলে ঘরে বসে থাকলে তার কাছে খাবার চলে আসবে তাহলে সে মহামুর্খ ব্যতীত কিছু নয়। অতএব, আমরা রিযিকের সন্ধানে বের হব, তবে এ ব্যাপারটাকে জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য বানানো আমার মনে হয় ঠিক হবে না।
আমরা যারা বিশ্বাসী, তারা সবাই জানি যে এই পৃথিবীটা একটা পরীক্ষাশালা। এখন যে ইসলামে এসেছে তার কাছে প্রশ্নপত্র পৌছে গেছে। এখন সে যেভাবে এই জীবনটা কাটাবে তার উপর নির্ভর করে তাকে জান্নাতে সেরকম পদমর্যাদায় অভিষিক্ত করা হবে, অথবা যদি সে জাহান্নামের শাস্তির উপযুক্ত হয় তাহলে তাকে সেখানে যতদিন আল্লাহ চান ততদিন থাকতে হবে। আর যারা অবিশ্বাসী তারা আসলে পরীক্ষাটাকে ইগনোর করে মুখ অন্য দিকে করে গো ধরে বসে আছে। তাদের জন্য একটাই ফলাফল- জাহান্নাম। এখন আমরা সবাই জানি আমরা সবাই একটা পরীক্ষার হলে বসে আছি। তাহলে আমাদের এখন কি লক্ষ্য হওয়া উচিত? অবশ্যি কি করে বেশি নম্বর পাওয়া যায়। ঠিক তাই। আমাদের বাস্তব জীবনেও ঐ একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। কি করে মহান আল্লাহর সান্নিদ্ধ্য লাভ করা যায়। আর এর জন্য আমদের কুর’আন ও হাদীসের অনুসরণ করতে হবে।
অতএব, স্মিথ সাহেবের মিথ্যা অসীম অভাবের পিছনে না ছুটে আমাদের উচিত সসীম সময়ের মাঝে কি করে আল্লাহর অতি নিকটবর্তী হওয়া যায়। মহান আল্লাহ এই প্রশ্নের উত্তরও আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। তা হল, আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শিরক না করা ও তাঁকেই ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করা; পিতামাতার বাধ্যগত হওয়া; অতঃপর জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। এছাড়াও আছে হাজ্জ করা, অর্থ-সম্পদ ডানে, বায়ে, চতুর্দিকে সাদাকা করা, যাকাত আদায় করা, ইয়াতীমকে সাহায্য করা। এছাড়া আরো অনেকভাবে অনেক উপায় মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে ও রাসুল (সঃ) তাঁর হাদীসে বর্ণনা করেছেন। আপনাকে শুধু যখন যেভাবে পারেন যা করা আপনার পক্ষে সম্ভব তা করে যেতে হবে।

তবে সব ক্ষেত্রে একটা ব্যাপার নিশ্চিত করতে হবে, তা হল নিয়্যতের শুদ্ধতা। ধরুন, আপনি মানবতার খাতিরে কোন এতিমকে দান করলেন, তাহলে কিন্তু তা কতটুকু আখিরাতে আপনার কাজে দিবে তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। মহান আল্লাহ বলেনঃ
“তারা খাদ্যের প্রতি আসক্ত থাকা সত্ত্বেও মিসকীন, ইয়তীম ও বন্দীকে খাদ্য দান করে। তারা বলে, ‘আমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে খাদ্য দান করি। আমরা তোমাদের থেকে কোন প্রতিদান চাই না এবং কোন শোকরও না”। (৭৬ ৮,৯)

যাই হোক, যখন আমি বুঝতে পারলাম যে আসলে জীবনে আমাদের কি করা উচিত। তখন আমার মনে হলো এমন কিছু করা দরকার যা আসলেই করার মত। তখন আমি ঢাকায় থাকতাম। আশেপাশে যেদিকে তাকাই সেদিকেই দেখি অসহায় গরিব মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ লাগতো যখন দেখতাম, ৫-৬ বছরের কোন শিশু আমার হাতের কোকের বোতলটার জন্য অপেক্ষায় আছে। কোক খাওয়ার জন্য নয়। শুধু ঐ বোতলটার জন্য। হয়ত আমি কিছুটা বাকি থাকতেই ওকে ওটা দিয়ে দিতাম। কিন্তু মনে শান্তি পেতাম না। আমার মনে হত, আমাদের রাসূলের (সঃ) সুন্নত বলে, “এটা ঠিক নয়”। আমাকে কিছু একটা করতেই হবে। কিন্তু ভেবে পেতাম না কি করে কি করব। মনে হত আমি একা। মাঝে মাঝে ভাবতাম একটা এতিমখানা দিব। কিন্তু এত টাকা কোথায়। আর একটাতেই কি এতগুলো শিশুর সমাধান হবে? তখন আমি কিছু এতিমখানার প্রতি লক্ষ্য করে দেখলাম যে আসলে এগুলোতে শিশুদের জীবনযাত্রার মান মোটেও উন্নত হচ্ছে না। কারণ, আর্থিক সঙ্কট, পাশাপাশি দানের টাকার নিয়মিত সরবরাহ হচ্ছে না। কোন মাসে বেশি, কোন মাসে কম। যে মাসে কম সে মাসে শিশুরা কোন কোন বেলা না খেয়ে থাকছে। তখন ভাবলাম যে নাহ। এমন একটা কিছু করতে হবে যাতে এই সমস্যাগুলো না থাকে।
অনেক ভাবার পর, আমার এই ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে যা এল, তা হল দানের টাকার সোর্সের উপর পুরোপুরি নির্ভর না করে আমরা একটা বিজনেস করতে পারি, যার পুরো লাভটাই ঐ এতিমখানায় ব্যবহার করা হবে। বিজনেস আর অরফানেজ দু’টোর আলাদা অস্তিত্ত থাকবে। তবে বিজনেসের মুলধন আসবে আমাদের নিজস্ব দানের টাকা থেকে। আর তার প্রফিট যাবে অরফানেজে। একবার একটি ব্যবসা দাঁড়িয়ে গেলে আমাদের আর অরফানেজে টাকা দিতে হবে না বরং আমরা নতুন একটি ব্যবসার ব্যবস্থা করতে সচেষ্ট হব যাতে আরো কয়েকটি অরফানেজ চালানো যায়। এভাবে আর্থিক সঙ্কট থেকে যেন আমাদের শিশুরা বেঁচে থাকে। আর তাদের জীবনযাত্রার মান যেন সবসময় কনস্টেন্ট থাকে।
এই প্রজেক্টটির একটি মজার ব্যপার হয়ত যারা অর্থনীতির ছাত্র তারা অলরেডি বুঝে ফেলেছেন। It’s quite simple- in capitalism where cash flow is upward; this project will make the cash flow downward.
যাই হোক এটা আমার একটা স্বপ্ন। বলতে পারেন পরীক্ষায় ভালো করার স্বপ্ন। আর চাইলে আপনিও এই স্বপ্নের অংশীদার হতে পারেন। কারণ জানেনই তো ইসলামে কোন কপিরাইট কিংবা পেটেন্ট নেই।

বিস্তারিত জানতে এই পেজটিতে জয়েন করুন- 
http://www.facebook.com/Islamic.orphanage.trust

আর প্রজেক্টটির ড্রাফট কন্সটিটউশন দেখতে ক্লিক করুন-
http://www.facebook.com/notes/islamic-orphanage-trust-iot/draft-constitution-iot/214979661866936

মহান আল্লাহ আপনাদের সবাইকে নিয়ামতের জান্নাতে দাখিল করুন। আমীন।




0 comments:

Post a Comment

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More

 
Design by Free WordPress Themes | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | coupon codes