বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর যার হাতে আমার প্রান। আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আশ্রয় চাচ্ছি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে সকল প্রকার গোমরাহী থেকে। শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর প্রতি, আরো শান্তি বর্ষিত হোক সকল আম্বিয়া (আঃ) গণের প্রতি, রাসুল (সঃ) এর সকল সাহাবা (রাঃ) দের প্রতি, ও সকল শহীদ, সিদ্দিক, মুত্তাকী, মুমিন ও মুসলমানদের প্রতি।
“স্বাধীনতা” শব্দটা ছোটবেলা থেকে অনেক শুনে আসছি। কিন্তু মানেটা ঠিক বুঝতে পারতাম না। পড়ার সময় খেলতে যাওয়া কিংবা স্কুল ফাকি দিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া অথবা যখন যা ইচ্ছা তাই করতে পারাটাকেই মনে করতাম- স্বাধীনতা। আরেকটু যখন বড় হলাম তখন বুঝলাম শত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা ও দেশের মানুষের অধিকার সংরক্ষন কিংবা শিষ্টের লালন ও দুষ্টের দমনই হল স্বাধীনতা। কিন্তু যখন আরো বুঝতে শিখলাম তখন জানলাম “Freedom is not free”। অর্থাৎ স্বাধীনতা পেতে হলে আপনাকে কিছু ছাড় দিতে হবে অথবা কোথাও না কোথাও “চির উন্নত মম শির” কে কিছুটা নত করে চলতে হবে। যেমন ধরুন আপনি চাইলেও আপনার অফিসের বসের ত্রুটি তাকে সরাসরি বলতে পারবেন না কিংবা সরকারের দেওয়া আইনের বাইরে গেলে পুলিশের আপ্পায়ন খেতে হবে। ক্লাসে স্যার যাই বলুক না কেন তাই পরীক্ষার খাতায় উগরে দিতে হবে। নতুন ফ্যাশন এলে তাকে অনুকরন করতে হবে নতুবা মানুষ আনস্মার্ট ভাববে। আরো আছে “পাছে লোকে কিছু বলে” এর ভয়। এটা করা যাবে না লোকে কি বলবে, কিংবা এটা করলে তো পথে বসতে হবে তখন খাবো কি!!
যাই হোক, আপনি আমি আমরা সবাই কোন না কোনভাবে পরাধীন। এই পরাধীনতা থেকে মুক্তির কি কোন উপায় নেই? হ্যাঁ আছে। ইসলাম দিতে পারে আপনাকে সেই কাঙ্খিত মুক্তি। আল্লাহর একত্ববাদ এর মানে যদি আমরা একটু বুঝি তাহলেই বুঝতে পারবো যে মহান আল্লাহ কি করে মানুষকে এমন একটি জীবন ব্যবস্থা দিয়েছেন যাতে আপনাকে কখনো মাথা নত না করে চলতে হয়। আল্লাহর একত্ববাদ মানুষকে সৃষ্টির আনুগত্ব করা থেকে বিরত রেখে স্রষ্টার আনুগত্ব শিখায়। মহান আল্লাহ তা’আলা সুরা বাকারায় বলেছেনঃ “তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করিও না, এবং জানিয়া শুনিয়া সত্যকে গোপন করিও না”। এই আয়াতটির প্রয়োগ যদি আমরা আমাদের পার্থিব জীবনে করি তাহলে আমাদের আর বসের ভুল কথায় হ্যাঁ স্যার হ্যাঁ স্যার করতে হবে না। আর আল্লাহর দেয়া আইন বাস্তবায়ন করলে দেশে আর কাউকে সরকারের সামনে মাথা নত করতে হবে না। আল্লাহর আইনে উপর নিচ সব সমান। আপনার জন্য যে আইন দেশের প্রধানের জন্যও সেই আইন। আর চাইলে সে আইন পরিবর্তনও করতে পারবে না।
আর আপনি যদি আল্লাহকে ইলাহ হিসেবে মেনে নেন তাহলে সমাজের কে কি বলল তাতে আপনার কিছুই আসবে যাবে না। আপনি শুধু সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য কাজ করবেন। আর সবচেয়ে বড় যে ভয় আমাদের সবার মাঝে কাজ করে তাহল- জীবিকার ভয়। হায় হায় এটা করলে তো চাকরি যাবে কিংবা ব্যঙ্কের লোন না নিলে ব্যবসা হবে না আর ব্যবসা না হলে খাব কি? অথবা খুব ভালো করে পড়াশুনা না করলে জীবনে কিছু করা যাবে না, চাকরি পাবো না ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু ইসলাম বলে দুনিয়ায় আমাদের সবার রিযিক নির্ধারিত, তার চুল পরিমান কম বেশি করা হবে না। যার যখন মৃত্যু আসবে তখন তাকে এক সেকেন্ড সময়ও বেশি দেওয়া হবে না। তাই আমরা যখন মহান আল্লাহকে মানবো তখন তার উপরই ভরসা করব। তাওয়াক্কুল আমাদের জীবিকার ভয় দূর করে দিবে। রাসুল (সঃ) এর কথা অনুসারে মহান আল্লাহ আমাদের পাখিদের মত জীবিকা দান করবেন- পাখিরা সকালে বের হয় খালি পেটে কিন্তু সন্ধ্যায় ভরপেট ফিরে আসে।
একটু চিন্তা করলেই আমরা দেখতে পাবো যারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করে না তারা কোন না কোনভাবে তাঁর সৃষ্টির কাছে মাথা নত করতে বাধ্য। এই আধুনিক যুগে তা আরো ভয়াবহ। আধুনিক যুগের প্রতিযোগিতা ও খাই খাই মনোভাবে শান্তিতে বেঁচে থাকা দায়। সবাই আরো চায়, আরো । কোন কিছুতেই যেন চাহিদার পুর্ণতা নেই। তাই মনে প্রশান্তিও নেই। কিন্তু আমরা যখন মহান আল্লাহর হাতে আমাদের সবকিছু ছেড়ে দেব তখন আল্লাহ আমাদের আত্মায় প্রশান্তি দান করবেন। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে আমাদের মুক্তি দিবেন। ফ্যাশন হাউজ গুলো ফ্যাশনের বাহার দেখিয়ে আর আমাদের বোকা বানাতে পারবে না। আর সত্যি বলতে আমাদের অনেক টাকাও বেঁচে যাবে। অযথা খরচ ও অপব্যয় থেকে আমরা মুক্তি পাবো।
দেশ, জাতি, শ্রেনী কিংবা বর্নের মত প্রথা বিলুপ্ত হবে আল্লাহর একত্ববাদে। পুরো সৃষ্টিজগত আল্লহর আর আমরা আল্লহর বান্দা তাই শুধু একটি দেশ কিংবা জাতি দিয়ে আমরা আর বিভাজিত থাকবো না। মহান আল্লাহ বলেছেনঃ “…আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরিচিত হতে পার”। (সুরা হুযুরাতঃ ১৩) তাই এটা প্রতীয়মান সত্য যে দেশের নাম করে, জাতীয়তার নাম করে আমাদের গোলাম করে রাখছে কিছু গুটি কয়েক পলিটিশিয়ান। এই গোলামির শৃংখল থেকে বের হয়ে আসতে হলে আমাদের শুধু এক আল্লাহর কাছে মাথা নত করতে হবে।
সবশেষে এই বলবঃ একটু ভাবুন- আর কত!! আর কত গোলামি করবেন- অর্থের গোলামি, সম্মানের গোলামি, গৌরবের গোলামি কিংবা নিজের স্বকীয়তার গোলামি। সব ছেড়ে আসুন আমরা সবাই এক আল্লাহর সামনে মাথা নত করি ও বাকি সব কিছুকে তুচ্ছ জ্ঞান করি। কারণ, আল্লাহই সব কিছুর মালিক; তিনি যাকে ইচ্ছা অর্থ দান করেন, যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন কিংবা যাকে ইচ্ছা অসম্মানিত করেন।
মহান আল্লাহ আমাদের সত্যিকারের স্বাধীনতা দান করুন। আমীন।


23:45
নাজমুল ইসলাম
1 comments:
I wish your success. May Allah help your preaching Islam. I request you that always post authentic books from authentic libraries of Bangladesh, such as, Tawheed Publications, Ahle Hadith Library, Husain Al Madani Library, Hadith Foundation Library Rajshahi etc. Also please never publish books of the writer those are followers of Mazhab instead of Quran and Sahih Hadith.
Zajakallahu Khairan,
http://islamicbookbd.wordpress.com/
Post a Comment